তাহসিফ সাউরির বিষয়ে দীপের কাছ থেকে যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা

কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

তাহসিফ সাউরি

ছবির উৎস, https://www.facebook.com/tahsif.souri

ছবির ক্যাপশান, তাহসিফ সাউরি

Published ২ মিনিট আগে

পড়ার সময়: ৫ মিনিট

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে ঢাকার একটি আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

এদিকে দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাটির বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তাহসিফ সাউরির মরদেহের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনকেই তদন্তের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে এবং এর পরের সব কল ও অন্যান্য তথ্যের ফরেনসিক করছে দুটি সংস্থা।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই মোবাইল থেকেই মৃত্যুরহস্য উদঘাটনের সূত্র বের করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় তাউসিফ সাউরিকে সর্বশেষ দেখা গেছে সেখানে যাওয়া কিংবা 'ধাওয়ার' মুখে পড়ার মতো তথ্যগুলোও তারা বিবেচনায় রাখছেন।

বিশেষ করে যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং যে এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো এখন ঢাকার মাদক ব্যবসার হটস্পট হিসেবে পরিচিত।

মি. সাউরি কেন এত রাতে সেখানে গিয়েছিলেন, কিংবা তিনি আগেও এসব এলাকায় যাতায়াত করেছেন কি-না, করলে সেখানে কাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হতো, এবং নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি ও দীপ সেখানে কার কার সঙ্গে দেখা করেছেন এসব কিছুই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো বলছে।

আবার এসব প্রশ্নের একটির সঙ্গে আরেকটির সম্পৃক্ততা কিংবা সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার যে প্রাথমিক বর্ণনা ইতোমধ্যে উঠে এসেছে, তার ভিত্তিতে রিমান্ডে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ থেকেও তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading

সর্বাধিক পঠিত

  • Ryua on the left and Ryua's s first floor apartment in Tokyo on the right

  • এক নারী এক শিশুর জ্বর মাপছেন হাত দিয়ে

  • অলিম্পিয়া

  • নীল রঙের শৈল্পিক হ্যাকার কোডের উপর হলুদ রঙে বাইন্যান্স লোগো।

End of সর্বাধিক পঠিত

Skip বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন: and continue readingবিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনী থেকে চাকরি হারান তাহসিফ সাউরি

ছবির উৎস, Tahsif Souri FB

ছবির ক্যাপশান, শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফ সাউরি বরখাস্ত হন বলে জানা যায়

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর আগে যেসব ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যেই গণমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তাতে দেখা গেছে তিনি দীপসহ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা গেছেন, কিন্তু দীপের সঙ্গে আর ফেরেননি।

বরং একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে দীপ একাই মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই এলাকা থেকে ফিরে আসছেন।

আবার মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরা এলাকাতেই তার সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা গেছে বলে যে ফুটেজটি ছড়িয়ে পড়েছে সেটির সত্যতা যাচাই করে দেখার কথাও বলছেন তদন্তকারীরা।

ওই ফুটেজে তাদের সঙ্গে দীপকেও যাচ্ছে। তদন্তকারীরা দীপের কাছ থেকে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন বলে আশা করছেন।

ওদিকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা হওয়ায় তাহসিফ সাউরির মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সরকার। 'শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও' ধারণ বা ছড়ানোর মতো দাবিসহ তাহসিফ সাউরিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া 'বিষয়গুলো' সত্যি নয় বলেই মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ।

তারা জানান, ঘটনাটিকে 'স্পর্শকাতর' মনে করে এর প্রকৃত কারণ বের করতে সরকারের আগ্রহের কথা ইতোমধ্যেই তদন্ত সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হন বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। পরে বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজারবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে তার বাবাকে জানায় টঙ্গী নৌ পুলিশ।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় সামাজিক মাধ্যমে।

এমন প্রচার ছড়িয়ে পড়ে যে, ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় উড়োজাহাজে ওঠার ভিডিওটি মি. সাউরি ধারণ বা প্রচার করেছিলেন।

যদিও কিছুদিন আগেই একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই তা অস্বীকার করেছিলেন।

ছবির ক্যাপশান, থানায় মামলা করেছেন তাহসিফ সাউরির বাবা

আবার তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় আটক দীপের প্রাথমিক বয়ানে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার যে তথ্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, "পুলিশ ধাওয়া দিলে একজন কমিশন্ড অফিসার দৌড় দেবে এটাই তো হাস্যকর কথা। প্রশ্নই আসে না। ধাওয়াই বা দেবে কেন, আর সে দৌঁড়াবেই বা কেন। বোগাস কথাবার্তা। একজন কমিশন্ড অফিসার যে কোনো স্টেজে চমৎকারভাবে ফেস করার মতো সাহসিকতা মানসিকতা সবকিছুই রাখে"।

মি. সাউরির বাবা এনায়েত করিম শুক্রবার রাতে ঢাকার উত্তরখান থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। আজ সেই মামলায় দীপকে গ্রেফতার দেখানোর কথা জানিয়েছিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আদালতে উপস্থাপনের পর তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

মি. করিম আগেই জানিয়েছিলেন যে দীপ ছিল তার ছেলের 'ছোটো ভাইয়ের মতো'।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, "দীপের সাথে আমার ছেলের বেশ কিছুদিন ধরে সম্পর্ক। আসা যাওয়া করতো। খাওয়া দাওয়া করতো। তার ছোটো ভাইয়ের মতো। সেই ডেকে নিয়ে গেছে"।

ছবির উৎস, SCREEN GRAB

ছবির ক্যাপশান, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি মি. সাউরির বলে নিশ্চিত করেছে পিবিআই

তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন যে, পিবিআইয়ের তদন্তের যেটুকু খবর তিনি দেখেছেন, তাতে দীপ তার ছেলের সঙ্গে টঙ্গীতে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও তাকে ভিন্ন কথা বলেছিলেন।

"দীপ আমাকে বলেছিল সে আমার ছেলেকে কম্পাউন্ডে রেখে গেছে। বিষয়গুলো আসলে প্রশ্নবিদ্ধ। আমি জানি না কে জড়িত বা কে কী করেছে। আমি বুঝতে পারছি না," বলেছেন তিনি।

মি. করিম সাংবাদিকদের জানান যে, তিনি উত্তরখান থানায় আবেদন করেছেন তার ছেলের মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করার জন্য।

থানায় তিনি যে মামলা করেছেন সেখানে তিনি লিখেছেন, "গত ২৭শে অক্টোবর আমার পুত্র সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় দীপ নামক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যায়। রাত বেশি হলেও ছেলে ফেরত না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায় সে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরবে। পরে রাতে ১টা ৩ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েস মেসেজ পাঠ যে 'রওনা দিসি আসতেছি'। কিন্তু রাত পেরিয়ে পরের দিন বিকেল হলেও ফিরে আসেনি"।

তিনি আরও লিখেছেন, "পরে ২৮শে অক্টোবর নৌ পুলিশ ফোনে আমাকে জানায় যে রাজারবাড়ি ঘাট উত্তরখান এলাকাতে তুরাগ নদী থেকে আমার সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। পরে ময়না তদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯শে অক্টোবর দুপুরে নৌপুলিশ আমাদের সন্তানের মৃতদেহ হস্তান্তর করে"।

উল্লেখ্য, তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল রিপোর্টে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে।

পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মি. দ্বীপ এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি তারা।

এদিকে তুরাগ নদের যে এলাকা থেকে মি. সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, শুক্রবার দুপুরে সেখানে পরিদর্শন করেছেন পিবিআই এর তদন্তকারী দল। এছাড়া মি. দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কয়েকটি স্পটে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

Source: BBC Bangla · BBC News বাংলা

At a glance

Topic
World
Country
🇧🇩 BD
Publisher language
BN
Added to Allnira