ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র: দুই দেশের নির্বাচনের পরিণতি হবে বিশ্বব্যাপী
কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন
ছবির উৎস, Reuters
- Author, জেমস ল্যানডেল
- Role, কূটনৈতিক প্রতিবেদক
- Reporting from, জেরুসালেম
Published এক মিনিট আগে
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
দুটি পৃথক মহাদেশে গুরুত্বপূর্ণ দুটি নির্বাচন, তবে এর ফলাফল পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে।
অভাবনীয়ভাবে মিলে যাওয়া নির্বাচনী ক্যালেন্ডারে প্রায় ছয় হাজার মাইল দূরত্বের দুইটি দেশের ভোটাররা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের ভোটাররা নতুন সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট দেন। আর ঠিক এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা নতুন কংগ্রেস নির্বাচন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সাবেক স্পিকার টিপ ও'নেইল হয়তো একবার বলেছিলেন, "সব রাজনীতিই স্থানীয়"।
কিন্তু এই নির্বাচনগুলোর ফলাফল নিশ্চিতভাবেই বৈশ্বিকভাবে প্রভাব ফেলবে। কারণ এই নির্বাচনগুলো কেবল কাছাকাছি সময়েই হচ্ছে তা না বরং এগুলো একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
মধ্যপ্রাচ্য এবং পুরো অঞ্চলে চলমান যুদ্ধগুলোর ওপর ইসরায়েলের ভবিষ্যত সরকার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রে যে কোনো পরিবর্তন কেবল সেই যুদ্ধগুলোকেই নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যতকেও নতুন রূপ দিতে পারে।
এই দুইটির মধ্যে একটি বাস্তব সংযোগও রয়েছে। যেমন - লবি গ্রুপ রিপাবলিকান ওভারসিজ ইসরায়েল এর হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী প্রায় পাঁচ লাখ ইসরায়েলি নাগরিকদের এই দুই নির্বাচনেই ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে।
Skip সর্বাধিক পঠিত and continue reading
সর্বাধিক পঠিত
End of সর্বাধিক পঠিত
এই গ্রুপের চেয়ারম্যান মার্ক জেল বলেন, এই ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারেন। যেমন- মিশিগানের সেনেট নির্বাচন।
যেখানে ইসরায়েল থেকে প্রায় দশ হাজার অনুপস্থিত ভোট পড়তে পারে বলে অনুমান করেছেন তিনি।
বিবিসিকে তিনি বলেন, "তারা সত্যিই বড় ধরনের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।"
তবে এই নীতিগত সংযোগটি সম্ভবত আরো গভীর, বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যুদ্ধকে ঘিরে এটি সবচেয়ে তীব্র।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ওই বিশাল বিমান হামলায় বহু সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয় এবং ইরানের নেতৃত্বের বড় একটি অংশ নিহত হয়েছে।
কিন্তু এরপরেও এই হামলা দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেনি বরং উল্টো ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে জোরালোভাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে হরমুজ প্রণালি এবং এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জ্বালানি সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে।
Skip বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ and continue readingবিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য সংবাদ
ছবির উৎস, EPA/Shutterstock
ইরান ইস্যু
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
নির্বাচন আয়োজনের এই বাস্তবতাটিই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আগে থেকেই প্রভাবিত করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনী প্রচারণাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে প্রচার করছেন।
ইরানের পারমাণবিক হুমকি নিয়ে নতুন করে দাবি তুলেছেন তিনি। যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
তবে বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ইসলামিক এই শাসনামলকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই হবে। তার মূল লক্ষ্য হলো, নিরাপত্তা নেতা হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখা বা মজবুত করা।
কারণ গত সাতই অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে চালানো প্রাণঘাতী হামলার পর তার সেই ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণাকে সমর্থন জানিয়ে ইরানের ওপর নতুন হামলার গুঞ্জন আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, দুই নেতারই উচিত ইরানে "কাজটি শিগগিরই শেষ করা"।
তবে এত আস্ফালন ও যুদ্ধের হুমকির মাঝেও এর উল্টো খবরও পাওয়া গেছে।
এটি হলো, নির্বাচনের আগে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে ভোটারদের মধ্যে তার অজনপ্রিয় যুদ্ধের কথা আবার মনে করিয়ে দিতে পারে।
এই আশঙ্কায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ইরানে হামলা করা থেকে বিরত রাখতে হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
তাহলে কী ইরানের ওপর হামলা নির্বাচনের পর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে?
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে অনুমান করা হচ্ছে যে, নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু হয়তো তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইরানে হামলা চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করতে পারেন।
এই ধারণার পেছনে যুক্তি হলো, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কোনো জোট হওয়ার চেয়ে তিনি তখন একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখাবেন, যে সরকারে তাকেও রাখা হবে।
দীর্ঘকাল ধরেই ইসরায়েলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহু একজন টিকে থাকার কারিগর হিসেবে পরিচিত।
যদি তিনি ক্ষমতা হারান, তাহলে তাকে ৭ই অক্টোবরের হামলার আগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারি তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পুরোনো আইনি প্রক্রিয়াগুলোও আবার শুরু হবে।
এই জল্পনা-কল্পনা এতটাই জোরালো যে, নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সেনা প্রধান গাডি আইজেনকোট ইতিমধ্যেই যে কোনো জাতীয় ঐকমত্যের সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
প্রধান ধারার অন্য সব ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের মতো আইজেনকোটও ইরানকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন এবং ইসলামি এই শাসনামলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন দেন।
তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যুদ্ধের মাত্রা আরো বাড়িয়ে না তোলার জন্য স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
ছবির উৎস, REUTERS/Jonathan Ernst
'লিগেসি মোড'
অবশ্যই, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের যদি পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার কোনো চাপ না থাকে এবং শেষ একটি বড় ধাক্কা দিয়ে তিনি যদি এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে বের করে আনতে চান, তাহলে ইরানের ওপর আরেকটি হামলা চালাতে আরো বেশি আগ্রহী হতে পারেন।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান অর্থনীতি ও শক্তিতে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হলে দেশটির সাধারণ মানুষই বর্তমান শাসনামলকে উৎখাত করতে উৎসাহিত হতে পারে।
যদিও অন্যরা এটিকে কেবলই একটি আকাশ কুসুম কল্পনা হিসেবে দেখছেন। এটি এমন একটি কৌশল যা বারবার ব্যর্থ হয়েছে কিন্তু ওয়াশিংটনে এখনো এর গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
বেশ ভালো হিসেবে পরিচিত একজন পশ্চিমা কূটনীতিক আমাকে বলেছেন, "মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি লিগেসি মোড বা ঐতিহ্য ধরে রাখার পর্যায়ে চলে যাবেন। দেশের ভেতরের এই গোলকধাঁধা বা জটিল পরিস্থিতি ছাড়া অন্য যে কোনো বিষয়ে নিজের ক্ষমতা বা প্রভাব দেখাতে চাইবেন তিনি।"
ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং দেশটিকে প্রতিহত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইসরায়েলে প্রায় সব দলের মধ্যেই একটি সাধারণ ঐকমত্য রয়েছে।
তবে ভোটাররা যদি নতুন কোনো সরকার বেছে নেন, তাহলে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী আসতে পারেন যার নতুন করে হামলা চালানোর পেছনে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আগ্রহ অনেকটাই কম থাকবে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার চিন্তাভাবনাও বদলে যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, "ইসরায়েলের যদি ভুল নেতা থাকে অর্থাৎ বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) ছাড়া অন্য কেউ, তাহলে আমেরিকাকেই এই কাজ নিজের হাতে করতে হবে, আর আমি সেটার পক্ষে না।"
আর তাই তেহরানের নীতি নির্ধারকরা যে ওয়াশিংটনের বিশ্লেষকদের মতোই মার্কিন জনমত জরিপগুলোর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
কিন্তু ঝুঁকিটা হলো, নির্বাচনের পর যদি নতুন করে হামলা চালানো হয় আর ইরানও তার জবাবে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য ফের নতুন এক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে।
প্রকাশ্যে এবং গোপনে, দুইভাবেই ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি বিভিন্ন বিমান বন্দর, পাইপলাইন, সাবমেরিন ক্যাবল, জ্বালানি স্থাপনা ও সমুদ্রের পানি শোধন প্ল্যান্টে আঘাত হানার হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ লিখেছেন, নতুন কোনো হামলা চালানো হলে সেটি "বেসামরিক মানুষের জীবন ও পুরো অঞ্চলের দেশগুলোর মঙ্গল, এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে।"
ছবির উৎস, EPA/Shutterstock
অর্থনীতিই মূল বিষয়
বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এই দুইটি নির্বাচন একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জিনিসপত্রের চড়া দাম মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ইরান যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ আটকে দেয়, তখন ট্রাম্পের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।
ইসরায়েলেও অর্থনীতি একটি বড় নির্বাচনী বিষয়।
যেখানে ভোটারদের চড়া বাজারদর ও কম আয়ের সাথে লড়াই করতে হচ্ছে।
তবে সেখানেও যুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখছে। কারণ প্রতিরক্ষা খাতে আকাশসমান খরচ করার ফলে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ আরো বেড়ে গেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার ওপর থেকে তিনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন এই ব্যর্থ আশায় যে, মস্কো থেকে ডিজেল আনলে দেশে জ্বালানির দাম কমবে।
পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রতিও কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছেন তিনি।
ইউক্রেনীয় নেতাদের কিছু ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত সেটি কোনো ফল বয়ে আনেনি, যাতে পররাষ্ট্র নীতিতে বড় কোনো সাফল্যের দাবি তিনি করতে পারেন।
কিন্তু ট্রাম্পের এই বিতর্কিত কৌশল নিয়ে খোদ রিপাবলিকান দলে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।
ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত নর্থ ক্যারোলিনার সিনেটর থম থম টিলিস সিবিএস নিউজকে বলেন, "প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই জ্বালানির দাম কমাতে চান, তাহলে তার উচিত ইরান সমস্যার সমাধান করা, ভ্লাদিমির পুতিনকে কোনো সুবিধা বা অনুকম্পা পাইয়ে দেওয়া না।"
ইরান যুদ্ধের একটি পরিণতি পাশাপাশি গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দুইটি প্রধান দলের ভেতরে ঐতিহ্যগত ঐকমত্যে ফাটল ধরেছে।
মিশিগানে সিনেট নির্বাচনে বামপন্থী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা কমানোর প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "যে মিত্র আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে আপনাকে এমন যুদ্ধে ঠেলে দেয়, যে যুদ্ধ আপনার লড়ার কথা নয়, সে কখনো ভালো মিত্র হতে পারে না।"
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, পারমাণবিক সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া, প্রক্সি মিলিশিয়াদের প্রতি ইরানের সমর্থন দুর্বল করা এবং এমনকি দেশটির পুরো শাসনামলকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে হামলা চালিয়েছিল।
এরপর থেকে তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য বদলে গেছে এবং এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নিউইয়র্কের ডেমোক্রেটিক দলের বাম ধারার কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার ইসরায়েলের পশ্চিম তীরে ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহে সহায়তা করেন তিনি এবং ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে কিছুক্ষণের জন্য আটকও হন।
তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নির্বাচনী প্রচারণায় আটকের এই খবর দারুণ সাড়া ফেলে।
মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে এটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এমনকি নেতানিয়াহু নিজেও সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে হয়তো মার্কিন নিরাপত্তার সুরক্ষা কবচ ছাড়াই টিকে থাকতে হতে পারে।
অবশ্যই, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হেরে যান, তাহলে তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত ও টানাপোড়েনের বন্ধুত্বের অবসান ঘটবে, যে সম্পর্কে ট্রাম্পকে কখনো অতিরিক্ত উষ্ণ আবার কখনো বেশ শীতল হতে দেখা গেছে।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ইসরায়েলি সমকক্ষকে "মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী" বলে অভিহিত করেছেন।
অথচ গ্রীষ্মকালে তিনি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু "পাগল হয়ে গেছেন"। ফলে নতুন কোনো ইসরায়েলি নেতা ক্ষমতা নিলে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যেটি হবে একেবারেই ভিন্ন এক সমীকরণ।
যদি ডেমোক্রেটরা কংগ্রেসে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়াতে পারে, তাহলে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা লাগাম টানতে পারে।
সামরিক ব্যয় সীমিত করতে কংগ্রেসের ঐতিহ্যগতভাবে ক্ষমতা রয়েছে। এমনকি তারা ইসরায়েলে সামরিক সহায়তাও কমিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে যথেষ্ট নির্বাহী ক্ষমতা এবং ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থেকে যাবে, যার মাধ্যমে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেন।
এই বছরের শুরুর দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে এই দুইটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভোটাররা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তার ওপরই ভবিষ্যতে বিশ্ব কোন দিকে যাবে সেটি নির্ভর করবে।
Source: BBC Bangla · জেমস ল্যানডেল
At a glance
- Topic
- World
- Country
- 🇧🇩 BD
- Publisher language
- BN
- Added to Allnira